সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

গ্যালিলিওকে কেন আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয় ?

গ্যালিলিও গ্যালিলি:      আধুনিক পরীক্ষামূক বিজ্ঞানের জনকরূপে সম্মানিত গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২ খ্রিস্টাব্দ) ইতালির পিসা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। সাধারণভাবে তিনি গ্যালিলিও নামে পরিচিত। বাল্যকাল থেকেই গ্যালিলিও অসাধারণ প্রতিভা ও মননশীলতার পরিচয় দেন। পুত্রের অসাধারণ মেধা ও প্রতিভার কথা স্মরণ করে গ্যালিলিওর পিতা তাঁকে বিজ্ঞান সাধনায় আত্মনিয়োগ করার প্রেরণা দেন এবং চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করার জন্য তিনি পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এই সময় থেকেই তাঁর চিন্তাজগতে বিপ্লব দেখা দেয় এবং মধ্যযুগীয় গতানুগতিক চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষ শুরু হয়। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন। কিন্তু এই ঘটনার কিছুদিন পরেই তিনি আর্কিমিদিস- এর কাজের অনুকরণে এমন একটি নিক্তি তৈরি করেন যার দ্বারা মিশ্র ধাতু সমূহের মধ্যে কোন একটি উপাদানের পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। ইতিপূর্বেই তিনি গির্জায় ঝুলন্ত বাতিগুলোর দোলায়মান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দোলকের সূত্রগুলো আবিষ্কার করে সকলকে চমৎকৃত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি গণিতশাস্ত্রে প্রভূত পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি...

আধুনিক বিজ্ঞানে কেপলারের অবদান কি ?

আধুনিক বিজ্ঞানে কেপলারের অবদান:     জোহানেস কেপলার (১৫৭১-১৬৩০ খ্রিস্টাব্দ) জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, পদার্থবিজ্ঞানী এবং জ্যোতির্বিদ, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানে গ্রহের গতি সম্বন্ধীয় সূত্রাবলীর আবিষ্কার হিসাবেই বিশেষভাবে পরিচিত। টুবিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময়ই তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানে বিশেষত কোপারনিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন। কর্মজীবনের প্রারম্ভে প্রাগে এসে টাইকো ব্রাহের সহকারীরূপে জ্যোতির্বিজ্ঞানে মনোনিবেশ করেন। টাইকো ব্রাহের অকালমৃত্যুর পর তাঁর দীর্ঘকাল যাবৎ গবেষণালব্ধ তথ্যাবলী হাতে পেয়েই সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার করার জন্য সচেষ্ট হন। এর পরেই কেপলার গ্রহদের উৎকেন্দ্রিক কক্ষপথের আকৃতি ও প্রকৃতি নির্ণয়ে যত্নবান হন। গ্রহের গতি সম্বন্ধীয় প্রথম নিয়মটি হল: “প্রতিটি গ্রহ সূর্যের চারদিকে এক-একটি উপাবৃত্তাকার পথে ঘোরে এবং সূর্য এই সব উপবৃত্তের একটি নাভিবিন্দুতে অবস্থিত।” কয়েকবছর পরে তাঁর দ্বিতীয় নিয়মটি আবিষ্কৃত হল: “সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী সরলরেখা সমান সময়ে উপবৃত্তাকার ক্ষেত্রের সমান অংশ অঙ্কিত করে।” এই সূত্র দুটি এবং গ্রহদের গতি, ঔজ...

ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এগারো বছরের স্বৈরাচারিতা কাকে বলে ?

ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এগারো বছরের স্বৈরাচারিতা:       রাজত্বের প্রথম চার বছরে (১৬২৫-১৬২৯ খ্রিস্টাব্দ) স্টুয়ার্ট বংশীয় রাজা প্রথম চার্লস চারবার পার্লামেন্ট আহ্বান করেন এবং প্রতিবারই তিনি পার্লামেন্টের সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত হন। তারপর দীর্ঘ এগারো বছর তিনি পার্লামেন্ট আহ্বান না করেই শাসনকার্য পরিচালনা করেন। পার্লিয়ামেন্টের সঙ্গে তাঁর বিরোধের মূল কারণ ছিল সার্বভৌমত্ব ও শাসনকার্যের দায়িত্বের প্রশ্ন। ন্যায়ভাবেই হোক আর অন্যায়ভাবেই হোক পার্লিয়ামেন্ট শাসনকার্যের উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা দাবি করে। অপরদিকে রাজা চার্লসও ন্যায়ভাবেই হোক আর অন্যায়ভাবেই হোক পার্লিয়ামেন্টের এই দাবি অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেন। ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এই বিরোধ এড়াবার জন্য চার্লস পার্লিয়ামেন্ট আহ্বান না করেই শাসনকার্য পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে ১৬২১ থেকে ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পার্লিয়ামেন্টের কোন অধিবেশন বসেনি। ইংল্যান্ডে পার্লিয়ামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কোনকালেই এত দীর্ঘদিন পার্লিয়ামেন্ট আহ্বান না করে শাসনকার্য পরিচালিত হয়নি। সেজন্য এই এগারো বছর পার্লিয়ামেন্টের কোন অধিবেশন ছাড়া...

ফিজিওক্রাটস কারা ছিলেন ?

ফিজিওক্রাটস  :   ‌     রাজনৈতিক চিন্তার বাইরে অর্থনৈতিক চিন্তাও অষ্টাদশ শতকের ফ্রান্সে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল। সপ্তদশ শতকে ও অষ্টাদশ শতকের গোড়ায় অর্থনৈতিক তত্ত্বের মূল ভিত্তি ছিল মার্কেন্টাইলবাদ। মার্কেন্টাইলবাদী তত্ত্ব সংরক্ষণবাদী অর্থনীতিকে সমর্থন করত। কিন্তু নতুন প্রজন্মের অর্থনীতিবিদরা মার্কেন্টাইলবাদী তত্ত্বকে খারিজ করে ধ্রুপদী অর্থনৈতিক উদারবাদের ভিত্তি প্রস্ত্র স্থাপন করেছিল। স্কটিশ অর্থনীতিবিদ এডাম স্মিথ যাবতীয় বাধানিষেধ থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করার কথা বলেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি নূন্যতম রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের পক্ষপাতী ছিলেন এবং মুক্ত বাজার প্রতিযোগিতা ও অবাধ বাণিজ্যকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তাঁর অর্থনৈতিক চিন্তা "Laissez-faire" নামে পরিচিত।        সমকালীন ফ্রান্সেও একদল অর্থনৈতিক চিন্তাবিদও একই ধরণের অর্থনীতির কথা বলেছিলেন। তাঁদের বলা হত ফিজিওক্র্যাট অর্থনীতিবিদ। ফিজিওক্রাট চিন্তাবিদরা প্রচার করেছিলেন, সম্পদের উৎস সোনা বা রুপা নয়; একমাত্র জমিই সম্পদের উৎস। তাঁরা কৃষিতে ও কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধী ছিলেন। ...

একজন ঐতিহাসিক হিসেবে আবুল ফজলের মূল্যায়ন করো ।

আবুল ফজল:       ভারতবর্ষে মুসলমান শক্তির উদ্ভব ও প্রতিষ্ঠা যেমন রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন প্রবণতার সৃষ্টি করেছিল, তেমনি জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও নতুন এক যুগ বহন করে এনেছিল। মোগল যুগের ইতিহাসচর্চা বিশেষ করে দরবারী ইতিহাসের শ্রেষ্ট প্রতিনিধি ছিলেন আবুল ফজল। আকবরের মন্ত্রী, বন্ধু, রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিবিদ ও সামরিক অফিসার আবুল ফজল ইতিহাস রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন। শৈশবেই তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে ছিলেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি জ্ঞানার্জনের সমস্ত শাখায় দক্ষতা লাভ করেন। নির্যাতিত ও অত্যাচারিত পরিবারের দুর্ভাগ্য আবুল ফজলের চিন্তার উপর গভীর ছাপ ফেলেছিল। মোগল সম্রাট আকবরের আশ্রয় ও পৃষ্টপোষকতা লাভ করার পর তিনি রচনা করেন দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ-‘আকবরনামা’ ও ‘আইন-ই-আকবরী’।         মধ্যযুগের ভারতের ঐতিহাসিকদের মধ্যে আবুল ফজল ছিলেন সবচেয়ে প্রতিভাবান। ‘আকবরনামা’-র দ্বিতীয় খন্ডে তিনি ইতিহাস ও ইতিহাস তত্ত্ব সম্পর্কে তাঁর মতামত রেখেছেন। পূর্বসূরীদের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গীর সমালোচনা করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি বলেছেন, ‘এদের কাছে ইতিহাস হল মুসলমানদের ভারত জয়, শাসন এবং হিন...