গৌড়ের উত্থানে শশাঙ্কের কৃতিত্ব: গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর গৌড়ের স্বাধীনতা বিপন্ন হলে কনৌজের মৌখরী রাজারা গৌড় দখলের চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, চালুক্য বংশীয় রাজাদের নিরন্তর আক্রমণ গৌড়ের অস্তিত্বকে দুর্বল করে তুলেছিল। গৌড়ের এই টলায়মান অবস্থায় শশাঙ্ক ক্ষমতা দখল করে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। শশাঙ্কের রাজত্ব সম্পর্কে জানতে আমাদের মূলত নির্ভর করতে হয় বাণভট্টের 'হর্ষচরিত' ও হিউয়েন সাঙের ভ্রমণবৃত্তান্ত 'সি-ইউ-কি'-র ওপর। বংশ পরিচয় ও উত্থান: শশাঙ্কের বংশ পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায় না। রোহতাসগড়ের (রোহিতাশ্ব) গিরিগাত্রে 'শ্রীমহাসামন্ত শশাঙ্ক' নামটি খোদিত আছে। ঐতিহাসিকদের মতে, এই শশাঙ্ক এবং গৌড়রাজ শশাঙ্ক অভিন্ন ব্যক্তি। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শশাঙ্ক প্রথম জীবনে একজন সামন্ত নরপতি ছিলেন। ড. বি.সি. সেন মনে করেন, শশাঙ্ক মৌখরীদের অধীন সামন্ত রাজা ছিলেন। তবে ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার বলেছেন "শশাঙ্কই প্রথম বাঙালি রাজা যিনি আর্যাবর্তে সার্বভৌম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।" শশাঙ্ক নিজ বাহুবলে এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধীশ্বর হন এবং মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে তাঁর রাজধা...
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পিছনে হুন আক্রমণের দায়িত্ব: প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য সাম্রাজ্য ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্য। প্রায় তিন শতাব্দীকাল গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রাচীন ভারতের রাজনীতি, ধর্ম, সভ্যতা ও সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু স্কন্দগুপ্তের মৃত্যুর পর গুপ্ত সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ৫৫০ খ্রিস্টাব্দের সময়কালে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পিছনে ঐতিহাসিকগণ বহু কারণের কথা বলেছেন, যেমন—বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করার ক্ষেত্রে রাজাদের অযোগ্যতা, অর্থনৈতিক সংকট, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, প্রাদেশিক শাসকদের স্বাধীনতা ঘোষণা, বৈদেশিক আক্রমণ প্রভৃতি। এই সমস্ত কারণগুলি একল্পিতভাবে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের কারণ ছিল। বৈদেশিক আক্রমণ: বহু ঐতিহাসিক মনে করেন, গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের একটি অন্যতম কারণ ছিল বৈদেশিক আক্রমণ। গুপ্ত যুগের বিভিন্ন সময়ে বাকাটক, পুষ্যমিত্র, হুন প্রভৃতি বৈদেশিক শক্তিগুলি আক্রমণ চালিয়েছিল। স্কন্দগুপ্ত পুষ্যমিত্র ও হুন আক্রমণ প্রতিরোধ করলেও স্কন্দগুপ্তের পরবর্তী দুর্বল রাজাদের সময়ে ধারাবাহিক হুন আক্রমণ গুপ্ত সাম্রাজ্যকে পতনের দিকে নিয়ে যায়। ...