সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মে, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ম্যানর ব্যবস্থা বলতে কি বোঝ ?

ম্যানর ব্যবস্থা:        সামন্ততন্ত্রের ভিতর থেকে তার আবশ্যিক অঙ্গ হিসাবে ম্যানর প্রথার বিকাশ ঘটেছিল। ম্যানর প্রথা প্রকৃতপক্ষে সামন্তযুগের কৃষিভিত্তিক সমাজে একটি অর্থনৈতিক সংগঠন, একে সামন্ততান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ম্যানর প্রথা অনেক সময় সিনোরীয় প্রথা নামেও পরিচিত। মূলত সামন্ততন্ত্রে ভূস্বামী কর্তৃক কৃষক শোষণের যে পরিকাঠামো গড়ে উঠেছিল ম্যানর প্রথা ছিল তারই সাংগঠনিক ভিত্তি। সামন্তপ্রভু এবং ম্যানরে বসবাসকারী শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যের জোগান আসত ম্যানর থেকে।        ম্যানরের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। একটি ম্যানরের জমিকে দুইভাগে ভাগ করা হত—(1) সামন্তপ্রভুর খাস জমি বা ডিমেইনে, (2) স্বাধীনস্বত্বসম্পন্ন জমি বা ভিলেইন। এই জমির মাধ্যমে কৃষক সামন্তপ্রভুর সঙ্গে একটি অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ থাকত। সামন্ততন্ত্রের মতো ম্যানর প্রথার উৎস রয়েছে প্রাচীন রোমান ও জার্মানদের স্থানীয় সংগঠনের মধ্যে। ম্যানর প্রথার প্রধান শক্তি ছিল ভূমিদাস। এই ভূমিদাসরা আক্রমণকারী যোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে ভূমিদাসে রূপান্তরিত হয়।...

কখন ভাস্কো-দ্য-গামা ভারতে আসেন? তাঁর অভিযানের মূল লক্ষ্য কি ছিল?

ভাস্কো-দ্য-গামা :       ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে অটোমান তুর্কীগণ পূর্ব রোম সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্ত্যান্তিনোপল জয় করে নেয়। এর ফলে প্রাচ্য জগতের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্যিক যোগাযোগের স্থলপথগুলো সম্পূর্ণভাবে মুসলিম শক্তির কর্তৃত্বাধীন হয়ে পড়ে। ফলে ইউরোপের বণিক সম্প্রদায় অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জলপথে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে। এই সময় সামুদ্রিক শক্তি হিসাবে পোর্তুগাল যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল এবং পোর্তুগালের শাসনকর্তাগণও এই ব্যাপারে খুব উৎসাহী ছিলেন। ১৪১৭ খ্রিস্টাব্দে ভাস্কো-দ্য-গামা নামে এক পোর্তুগীজ নাবিক আফ্রিকার উপকূল অতিক্রম করে ভারতবর্ষের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন পথ আবিষ্কার করতে উদ্যোগী হন। ভাস্কো-দ্য-গামা ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে উত্তমাশা অন্তরীপ অতিক্রম করে দক্ষিণ ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কালিকট বন্দরে উপস্থিত হন। কালিকটের রাজা জামোরিন সেই সময় তাকে কোন বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি দেননি। কিন্তু ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করে ভাস্কো-দ্য-গামার মনে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় এবং ভৌগোলিক আবিষ্কারকে বাণিজ্যিক প্রয়োজনে পুরোপুরিভাবে ব্যবহার করার চেষ...

আইজ্যাক নিউটন কিভাবে আমাদের বিশ্বচেতনা পরিবর্তন করেন ?

আইজ্যাক নিউটন:    পৃথিবীর মহত্তম বিজ্ঞানীদের অন্যতম স্যার আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭ খ্রিস্টাব্দ) লিঙ্কনশায়ারের উলসথর্পে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যজীবনে তিনি মেধার বিশেষ কোন পরিচয় না দিলেও ট্রিনিটি কলেজে পড়ার সময় তিনি খুব সুখ্যাতি অর্জন করেন এবং ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে নিউটন ট্রিনিটি কলেজের ফেলে (Fellow) নির্বাচিত হন। ১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনি বীজগণিতের দ্বিপদ উপপাদ্যটি (binomial theorem) প্রমাণ করেন এবং অন্তরকলন (differential calculus) এবং সমাকলন (integral calculus)-এর মূল পদ্ধতিগুলো আবিষ্কার করেন। ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে নিউটন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতে লুকাসিয়ান প্রফেসর (Lucacian Professor of Mathematics) নিযুক্ত হন। এই সময় তিনি একটি প্রতিফলক দূরবীন (reflecting telescope) তৈরি করেন যাতে লেন্সের জায়গায় একটি প্রতিফলক ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কারের জন্য তিনি লন্ডনের রয়াল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। রয়াল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি তাঁর আলোর প্রকৃতি সম্পর্কে আবিষ্কারটির কথা সকলকে জানান। তিনি প্রমাণ করেন যে সদা সবরকম রঙেরী আলোর সংমিশ্রণ। নিউটনের এই আবিষ্কারের সম্পর্কে পণ্ডিত মহলেও ...

সপ্তদশ শতাব্দীতে আমস্টারডম কেন সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।

আমস্টারডম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরিণত হত্তয়ার কারণ :          নেদারল্যান্ডের  বিদ্রোহ বা  ওলন্দাজদের স্বাধীনতা যুদ্ধ ইউরোপের ষোড়শ  শতাব্দীর  ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা। এই যুদ্ধের  ফলেই নেদারল্যান্ড ও হল্যান্ডের যুক্তপ্রদেশ বিরাট বাণিজ্যিক দেশে পরিণত হয়। তবে স্বাধীনতা প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। তাদের এই পরিবর্তন আনয়ন করতে প্রায় এক শতাব্দী সময় লেগেছিল। অত্যন্ত অধ্যবসায়ের সঙ্গে ওলন্দাজগণ তাদের অগ্রগতি অব্যাহত রাখে এবং স্পেনের পরিবর্তে আর একটি বিরাট অর্থনৈতিক বাজার সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়। তবে স্বাধীনতাই ছিল তাদের উন্নতির মূল চাবিকাঠি। স্বাধীনতালাভের সঙ্গে সঙ্গে নেদারল্যান্ডের আধিবাসীদের মনে একটি নতুন জাতীয় চেতনার সৃষ্টি হয় এবং নেদারল্যান্ডকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত করার জন্য সেদেশের সকল অধিবাসীই সচেষ্ট হয়। তবে সমকালীন পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে থাকার জন্য নেদারল্যান্ডের উন্নতির পথের সকল বাধা দূর করা সম্ভব হয়। ইংল্যান্ডের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল তাদের উন্নতির অন্যতম প্রধান কারণ। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই দুটি দেশের মধ...