সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ঠান্ডা লড়াই (Cold War) কী ? ঠান্ডা লড়াই এর কারণ বা পটভূমি আলোচনা করো।

ঠাণ্ডা লড়াই: পরিচিতি : ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। এরপর বিজয়ী মিত্রশক্তিবর্গ দুটি পরস্পরবিরোধী রাষ্ট্রগোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে বিশ্বে এক অভিনব রাজনৈতিক বাতাবরণ সৃষ্টি করে। এই দুই শিবিরের একদিকে থাকে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট, অপরদিকে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমি ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য গড়ে তোলার জন্য এই দুই রাষ্ট্রজোটের মধ্যে যে গোপন লড়াই শুরু হয় তা ঠান্ডা লড়াই নামে পরিচিত। রুশ বিদেশমন্ত্রী ম্যাক্সিম লিটডিনভ-এর মতে—আদর্শগত ধ্যানধারণাই ঠান্ডা যুদ্ধের উদ্ভবের জন্য দায়ী। অধ্যাপক এফ. এইচ. হার্টম্যান-এর মতে—দুই মহাশক্তির দৃষ্টিভঙ্গি ও তত্ত্বগত পার্থক্য ঠান্ডা লড়াই-এর উদ্ভব ঘটায়। ঠান্ডা লড়াইয়ের কারণ / পটভূমি: ঠান্ডা লড়াইয়ের এই উদ্ভবের ব্যাখ্যাগুলিকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এগুলি হল- [1] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী;[2] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এবং [3] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পর্যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী পর্যায়:   রুশ বিপ্লবের সময় থেকেই ...

সুয়েজ সংকটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। এই সংকটে ভারতের ভূমিকা কী ছিল?

সুয়েজ সংকটের তাৎপর্য ও এই সংকটে ভারতের ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ মিশরে নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাবেদার শাসক বসিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও মিশরে ব্রিটিশ অধিপত্যের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫৬সালে মিশরের রাষ্ট্রপতি নাসের নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময় নাসেরের সাথে পশ্চিমি শক্তিবর্গের বিরোধ শুরু হয়। ১৯৫৬সালে ব্রিটেন মিশরের সুয়েজখালের রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে চাইলে নাসের তাতে রাজি হয় না। রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আমেরিকার নেতৃত্বে বাগদাদ চুক্তি থেকে মিশর দূরে থাকার জন্য, পশ্চিমজোট অসন্তুষ্ট হয়। মধ্যপ্রাচ্যে আবার জাতীয়বাদের বিরোধী ইজরায়েলের উত্থান নাসের মেনে নিতে পারেনি। 'ইউনিভার্সাল সুয়েজ ক্যানাল কোম্পানি' ৯৫বছরের মেয়াদে সুয়েজখাল পরিচালনার দায়িত্ব পায়। মিশরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলেও সুয়েজখাল থেকে আদায় হওয়া অর্থের খুব সামান্য অংশ মিশর পেত। সুয়েজখালও তার নিকটবর্তী অঞ্চলে মিশরের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। তখন নাসের মিশরের নীলনদের ওপর আসওয়ান বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেন। এই বাঁধ নির্মিত হলে মিশরের ৮,৬০,০০০ হে...

সুয়েজ সংকট কেন দেখা দিয়েছিল?

সুয়েজ সংকট : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার মিশরে নিজেদের তাবেদার শাসক প্রতিষ্ঠা করে সেখানে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করলে, মিশরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ও ব্রিটিশ আধিপত্য বিরুদ্ধে আন্দোলন চলতে থাকে যখন জেনারেল নেগুইব মিশরের শাসনক্ষমতা দখল করেন। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে গামাল আবদুল নাসের মিশরের ক্ষমতা দখল করেন ১৯৫৪ সালে। দুবছর পর তিনি মিশরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নাসের ক্ষমতা দখল করলে পশ্চিম শক্তিবর্গ সেটা ভালোভাবে মেনে নিতে পারে না। কারণ ব্রিটেন যখন ব্রিটেন সুয়েজ খালের রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েনের সময় বৃদ্ধি করতে চায়, নাসির তার প্রতিবাদ জানায়। আফ্রিকায় অবস্থিত ফরাসি উপনিবেশ আলজিরিয়ায় ১৯৫৪তে বিদ্রোহ শুরু হলে নাসের বিদ্রোহীদের সাহায্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যে রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আমেরিকায় নেতৃত্বে ১৯৫৫ সালে বাগদাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মিশর এই চুক্তি থেকে দূরে থাকে। পশ্চিমি জোট এতে অসন্তুষ্ট হয়। মধ্যপ্রাচ্যে আরব জাতীয়তাবাদের বিরোধী ইজরায়েল উত্থান মেনে নিতে পারেননি।পশ্চিম দেশের থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়ে নাসের ব্যর্থ হয় এবং রাশিয়...

কোরিয়া যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।

কোরিয়া যুদ্ধ: পটভূমি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর কোরিয়া উপদ্বীপ একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন জাপানের উপনিবেশ থাকাকালীন কোরিয়ার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। ১৯৪৫ সালে জাপানের পরাজয়ের পর কোরিয়াকে সাময়িকভাবে ৩৮° অক্ষরেখা বরাবর দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়—উত্তর অংশে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ অংশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সাময়িক বিভাজনই ধীরে ধীরে স্থায়ী রাজনৈতিক বিভাজনে রূপ নেয়। উত্তর কোরিয়ায় সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যেখানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শ ও সহযোগিতা কার্যকর ছিল। অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায়। উভয় কোরিয়াই নিজেদেরকে সমগ্র কোরিয়ার একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করায় উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। এই প্রেক্ষাপটে স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শগত সংঘাত কোরিয়া উপদ্বীপে সরাসরি সংঘর্ষের পথ তৈরি করে। কারণ: [1] রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান সম্পূর্ণরূপে পরাজিত...

কেন্নানের বেষ্টনী নীতি (Containment Policy): টীকা

কেন্নানের বেষ্টনী নীতি: প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়াতে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন জর্জ কেন্নান। এক টেলিগ্রামে (৮ হাজার শব্দবিশিষ্ট) তিনি সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান স্ট্যালিনের যুদ্ধ পরবর্তী রুশ সম্প্রসারণ নীতি সম্পর্কে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে কেন্নান Memoris, (1925-50) ও American Diplomacy (1900-58) এই দুই গ্রন্থে কেন্নান সোভিয়েত সম্প্রসারনের চরিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর বেস্টনী নীতির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন। পরিচিতি ও উল্লেখ: সোভিয়েত সাম্যবাদের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে মার্কিন বিদেশনীতির উপদেষ্টা জর্জ কেন্নান (George Kennan) সোভিয়েত সম্প্রসারণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে যে পদ্ধতি উল্লেখ করেন, তা বেষ্টনী নীতি বা ‘ Policy of Containment ’ নামে পরিচিত। ট্রুম্যান নীতি ঘোষণার পর ‘Foreign Affairs’ পত্রিকা (চতুর্থ সংখ্যা)-তে ‘Mr. X’ ছদ্মনামে এক প্রবন্ধে জর্জ কেন্নান (Containment) (বেষ্টনী) শব্দের উল্লেখ করেন ও এই নীতির ব্যাখ্যা করেন। (১৯৪৭ খ্রি., জুলাই)। মূল কথা: কেন্নান বলেন, সোভিয়েত রাশিয়া এই মুহূর্তে একটি রণক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেশ। রুশ জনগণও এ...

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কী? ভারত বিভাগ ও ভারতীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া ।

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা:  ভূমিকা : স্বাধীনতা লাভের জন্য ভারতবাসীর তীব্র আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ব্রিটিশকে বাধ্য করে স্বাধীনতাদান প্রশ্নের মীমাংসা করতে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অবসান ঘটাতে ব্রিটিশ সরকার দেশভাগ অনিবার্য বলে মেনে নেয়। জিন্নার পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবির প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং তাতে জওহরলাল ও প্যাটেলের সম্মতি থাকায় মাউন্টব্যাটেনের উপদেষ্টা লর্ড ইসম ভারতভাগের পরিকল্পনা পাঠান ব্রিটিশ পার্লামেন্টে (১৯৪৭ খ্রি., ২ মে)। পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’ রূপে পাস হয় (যদিও রাজকীয় সম্মতি লাভ করে ১৯৪৭ খ্রি., ১৮ জুলাই), যা  ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’  হিসেবে পরিচিত। মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার চূড়ান্ত পরিণাম দেশভাগ। এ প্রসঙ্গে ড. বিপান চন্দ্র বলেছেন—আমরা এটা ভুলে গিয়েছিলাম যে, ১৯৪৭-এ নেহরু, প্যাটেল ও গান্ধিজি শুধু যা অবশ্যম্ভাবী তাকেই মেনে নিয়েছিলেন।  পটভূমি    [1] মাউন্টব্যাটেনের আগমন : ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কাজ দ্রুত সম্পাদনের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট লর্ড ওয়াভেলের জায়গায় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভাইসরয় নিয়োগ করে ভারতে পাঠায় (২৪ মার্চ, ১৯৪৭ খ...