সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2026 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পিছনে হুন আক্রমণ কতটা দায়ী ছিল?

গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পিছনে হুন আক্রমণের দায়িত্ব: প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য সাম্রাজ্য ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্য। প্রায় তিন শতাব্দীকাল গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রাচীন ভারতের রাজনীতি, ধর্ম, সভ্যতা ও সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু স্কন্দগুপ্তের মৃত্যুর পর গুপ্ত সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ৫৫০ খ্রিস্টাব্দের সময়কালে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পিছনে ঐতিহাসিকগণ বহু কারণের কথা বলেছেন, যেমন—বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করার ক্ষেত্রে রাজাদের অযোগ্যতা, অর্থনৈতিক সংকট, অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, প্রাদেশিক শাসকদের স্বাধীনতা ঘোষণা, বৈদেশিক আক্রমণ প্রভৃতি। এই সমস্ত কারণগুলি একল্পিতভাবে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের কারণ ছিল। বৈদেশিক আক্রমণ: বহু ঐতিহাসিক মনে করেন, গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের একটি অন্যতম কারণ ছিল বৈদেশিক আক্রমণ। গুপ্ত যুগের বিভিন্ন সময়ে বাকাটক, পুষ্যমিত্র, হুন প্রভৃতি বৈদেশিক শক্তিগুলি আক্রমণ চালিয়েছিল। স্কন্দগুপ্ত পুষ্যমিত্র ও হুন আক্রমণ প্রতিরোধ করলেও স্কন্দগুপ্তের পরবর্তী দুর্বল রাজাদের সময়ে ধারাবাহিক হুন আক্রমণ গুপ্ত সাম্রাজ্যকে পতনের দিকে নিয়ে যায়। ...

সম্রাট স্কন্দগুপ্তের কৃতিত্ব বা হুন প্রতিরোধে স্কন্দগুপ্তের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

স্কন্দগুপ্তের কৃতিত্ব:  গুপ্ত সাম্রাজ্যের ইতিহাসে স্কন্দগুপ্ত এক গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল নাম। তিনি সাধারণত গুপ্তদের শেষ শক্তিশালী সম্রাট হিসেবে বিবেচিত। পিতা প্রথম কুমারগুপ্ত-এর মৃত্যুর পর সাম্রাজ্য যখন বহিঃশত্রু ও অন্তর্দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত, তখন স্কন্দগুপ্ত দৃঢ় নেতৃত্ব ও সামরিক দক্ষতার মাধ্যমে সাম্রাজ্যকে রক্ষা করেন। তাঁর শাসনকাল সম্পর্কে প্রধান তথ্য পাওয়া যায় ভিতারি স্তম্ভলিপি এবং জুনাগড় শিলালিপি থেকে। পুষ্যমিত্র ও বাকাটক আক্রমণ প্রতিহত: কুমারগুপ্তের শাসনের শেষদিকে সাম্রাজ্যের উপর পুষ্যমিত্র নামে এক শক্তির আক্রমণ নেমে আসে। ধারণা করা হয়, এই আক্রমণে বাকাটক রাজ্যেরও সমর্থন ছিল। তরুণ স্কন্দগুপ্ত তখনই সেনানায়ক হিসেবে অসাধারণ যোগ্যতার পরিচয় দেন। তিনি সফলভাবে শত্রুদের প্রতিহত করে সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা বজায় রাখেন। এই সামরিক সাফল্যই তাঁর সিংহাসনে আরোহণের পথ সুগম করে এবং রাজ্যের অভ্যন্তরে তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। হুন আক্রমণ ও স্কন্দগুপ্তের প্রতিরোধ: স্কন্দগুপ্তের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে হুনদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। পঞ্চম শতকের মাঝামাঝি সময়ে মধ্য এশিয়া থেকে আগত শ্বেতহুনরা উ...

গুপ্ত যুগের ভূমিদান ব্যবস্থা: সংক্ষিপ্ত টীকা।

গুপ্ত যুগের ভূমিদান ব্যবস্থা: প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে গুপ্ত যুগ তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই যুগের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম একটি প্রধান দিক ছিল ভূমিদান ব্যবস্থা। সেসময় জমির চূড়ান্ত মালিকানা রাজার হাতে থাকলেও, এই ভূমিদান প্রথার হাত ধরেই সেযুগে জমি ক্রয়-বিক্রয়, কৃষিব্যবস্থার উন্নতি এবং পরিশেষে সামন্ততন্ত্রের মতো এক নতুন সমাজব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটে। গুপ্ত যুগে জমি কেনাবেচা করতে হলে রাজার আগাম অনুমতির প্রয়োজন হতো। রাজা তাঁর নিজের জমিতে কর আরোপ করতে পারতেন। তবে পুণ্যলাভের আশায় গুপ্ত রাজারা বিভিন্ন সময়ে ব্রাহ্মণ, কর্মচারী, বণিক, মন্দির বা ধর্মস্থানগুলিকে প্রচুর নিষ্কর বা করমুক্ত জমি দান করতেন। প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে করমুক্ত জমি দানের এই বিশেষ ব্যবস্থাকেই বলা হয় 'অগ্রহার প্রথা'। এই ভূমিদান ব্যবস্থার দলিলে বিভিন্ন শর্ত বা নীতিধর্ম, যেমন— 'অক্ষয় নীতিধর্ম'-এর উল্লেখ থাকত। মৌর্য যুগে জমি সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট বছরের জন্য দান করা হতো। কিন্তু গুপ্ত যুগে এই প্রথার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে এবং চিরস্থায়ী ভিত্তিতে জমি দান করার চল শুরু হয়। অগ্রহার ব্যবস্থা অন...

ঠান্ডা লড়াই (Cold War) কী ? ঠান্ডা লড়াই এর কারণ বা পটভূমি আলোচনা করো।

ঠাণ্ডা লড়াই: পরিচিতি : ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। এরপর বিজয়ী মিত্রশক্তিবর্গ দুটি পরস্পরবিরোধী রাষ্ট্রগোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে বিশ্বে এক অভিনব রাজনৈতিক বাতাবরণ সৃষ্টি করে। এই দুই শিবিরের একদিকে থাকে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট, অপরদিকে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমি ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রজোট। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য গড়ে তোলার জন্য এই দুই রাষ্ট্রজোটের মধ্যে যে গোপন লড়াই শুরু হয় তা ঠান্ডা লড়াই নামে পরিচিত। রুশ বিদেশমন্ত্রী ম্যাক্সিম লিটডিনভ-এর মতে—আদর্শগত ধ্যানধারণাই ঠান্ডা যুদ্ধের উদ্ভবের জন্য দায়ী। অধ্যাপক এফ. এইচ. হার্টম্যান-এর মতে—দুই মহাশক্তির দৃষ্টিভঙ্গি ও তত্ত্বগত পার্থক্য ঠান্ডা লড়াই-এর উদ্ভব ঘটায়। ঠান্ডা লড়াইয়ের কারণ / পটভূমি: ঠান্ডা লড়াইয়ের এই উদ্ভবের ব্যাখ্যাগুলিকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এগুলি হল- [1] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী;[2] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এবং [3] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পর্যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী পর্যায়:   রুশ বিপ্লবের সময় থেকেই ...

সুয়েজ সংকটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। এই সংকটে ভারতের ভূমিকা কী ছিল?

সুয়েজ সংকটের তাৎপর্য ও এই সংকটে ভারতের ভূমিকা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ মিশরে নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাবেদার শাসক বসিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও মিশরে ব্রিটিশ অধিপত্যের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫৬সালে মিশরের রাষ্ট্রপতি নাসের নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময় নাসেরের সাথে পশ্চিমি শক্তিবর্গের বিরোধ শুরু হয়। ১৯৫৬সালে ব্রিটেন মিশরের সুয়েজখালের রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে চাইলে নাসের তাতে রাজি হয় না। রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আমেরিকার নেতৃত্বে বাগদাদ চুক্তি থেকে মিশর দূরে থাকার জন্য, পশ্চিমজোট অসন্তুষ্ট হয়। মধ্যপ্রাচ্যে আবার জাতীয়বাদের বিরোধী ইজরায়েলের উত্থান নাসের মেনে নিতে পারেনি। 'ইউনিভার্সাল সুয়েজ ক্যানাল কোম্পানি' ৯৫বছরের মেয়াদে সুয়েজখাল পরিচালনার দায়িত্ব পায়। মিশরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলেও সুয়েজখাল থেকে আদায় হওয়া অর্থের খুব সামান্য অংশ মিশর পেত। সুয়েজখালও তার নিকটবর্তী অঞ্চলে মিশরের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। তখন নাসের মিশরের নীলনদের ওপর আসওয়ান বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেন। এই বাঁধ নির্মিত হলে মিশরের ৮,৬০,০০০ হে...

সুয়েজ সংকট কেন দেখা দিয়েছিল?

সুয়েজ সংকট : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সরকার মিশরে নিজেদের তাবেদার শাসক প্রতিষ্ঠা করে সেখানে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করলে, মিশরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ও ব্রিটিশ আধিপত্য বিরুদ্ধে আন্দোলন চলতে থাকে যখন জেনারেল নেগুইব মিশরের শাসনক্ষমতা দখল করেন। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে গামাল আবদুল নাসের মিশরের ক্ষমতা দখল করেন ১৯৫৪ সালে। দুবছর পর তিনি মিশরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নাসের ক্ষমতা দখল করলে পশ্চিম শক্তিবর্গ সেটা ভালোভাবে মেনে নিতে পারে না। কারণ ব্রিটেন যখন ব্রিটেন সুয়েজ খালের রক্ষণাবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েনের সময় বৃদ্ধি করতে চায়, নাসির তার প্রতিবাদ জানায়। আফ্রিকায় অবস্থিত ফরাসি উপনিবেশ আলজিরিয়ায় ১৯৫৪তে বিদ্রোহ শুরু হলে নাসের বিদ্রোহীদের সাহায্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যে রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আমেরিকায় নেতৃত্বে ১৯৫৫ সালে বাগদাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মিশর এই চুক্তি থেকে দূরে থাকে। পশ্চিমি জোট এতে অসন্তুষ্ট হয়। মধ্যপ্রাচ্যে আরব জাতীয়তাবাদের বিরোধী ইজরায়েল উত্থান মেনে নিতে পারেননি।পশ্চিম দেশের থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়ে নাসের ব্যর্থ হয় এবং রাশিয়...

কোরিয়া যুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।

কোরিয়া যুদ্ধ: পটভূমি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর কোরিয়া উপদ্বীপ একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন জাপানের উপনিবেশ থাকাকালীন কোরিয়ার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। ১৯৪৫ সালে জাপানের পরাজয়ের পর কোরিয়াকে সাময়িকভাবে ৩৮° অক্ষরেখা বরাবর দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়—উত্তর অংশে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ অংশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সাময়িক বিভাজনই ধীরে ধীরে স্থায়ী রাজনৈতিক বিভাজনে রূপ নেয়। উত্তর কোরিয়ায় সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যেখানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শ ও সহযোগিতা কার্যকর ছিল। অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায়। উভয় কোরিয়াই নিজেদেরকে সমগ্র কোরিয়ার একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করায় উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। এই প্রেক্ষাপটে স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শগত সংঘাত কোরিয়া উপদ্বীপে সরাসরি সংঘর্ষের পথ তৈরি করে। কারণ: [1] রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান সম্পূর্ণরূপে পরাজিত...

কেন্নানের বেষ্টনী নীতি (Containment Policy): টীকা

কেন্নানের বেষ্টনী নীতি: প্রেক্ষাপট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়াতে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন জর্জ কেন্নান। এক টেলিগ্রামে (৮ হাজার শব্দবিশিষ্ট) তিনি সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান স্ট্যালিনের যুদ্ধ পরবর্তী রুশ সম্প্রসারণ নীতি সম্পর্কে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে কেন্নান Memoris, (1925-50) ও American Diplomacy (1900-58) এই দুই গ্রন্থে কেন্নান সোভিয়েত সম্প্রসারনের চরিত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর বেস্টনী নীতির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেন। পরিচিতি ও উল্লেখ: সোভিয়েত সাম্যবাদের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে মার্কিন বিদেশনীতির উপদেষ্টা জর্জ কেন্নান (George Kennan) সোভিয়েত সম্প্রসারণ প্রতিহত করার লক্ষ্যে যে পদ্ধতি উল্লেখ করেন, তা বেষ্টনী নীতি বা ‘ Policy of Containment ’ নামে পরিচিত। ট্রুম্যান নীতি ঘোষণার পর ‘Foreign Affairs’ পত্রিকা (চতুর্থ সংখ্যা)-তে ‘Mr. X’ ছদ্মনামে এক প্রবন্ধে জর্জ কেন্নান (Containment) (বেষ্টনী) শব্দের উল্লেখ করেন ও এই নীতির ব্যাখ্যা করেন। (১৯৪৭ খ্রি., জুলাই)। মূল কথা: কেন্নান বলেন, সোভিয়েত রাশিয়া এই মুহূর্তে একটি রণক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেশ। রুশ জনগণও এ...

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা কী? ভারত বিভাগ ও ভারতীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া ।

মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা:  ভূমিকা : স্বাধীনতা লাভের জন্য ভারতবাসীর তীব্র আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ব্রিটিশকে বাধ্য করে স্বাধীনতাদান প্রশ্নের মীমাংসা করতে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অবসান ঘটাতে ব্রিটিশ সরকার দেশভাগ অনিবার্য বলে মেনে নেয়। জিন্নার পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবির প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং তাতে জওহরলাল ও প্যাটেলের সম্মতি থাকায় মাউন্টব্যাটেনের উপদেষ্টা লর্ড ইসম ভারতভাগের পরিকল্পনা পাঠান ব্রিটিশ পার্লামেন্টে (১৯৪৭ খ্রি., ২ মে)। পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি ‘ভারতীয় স্বাধীনতা আইন’ রূপে পাস হয় (যদিও রাজকীয় সম্মতি লাভ করে ১৯৪৭ খ্রি., ১৮ জুলাই), যা  ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’  হিসেবে পরিচিত। মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার চূড়ান্ত পরিণাম দেশভাগ। এ প্রসঙ্গে ড. বিপান চন্দ্র বলেছেন—আমরা এটা ভুলে গিয়েছিলাম যে, ১৯৪৭-এ নেহরু, প্যাটেল ও গান্ধিজি শুধু যা অবশ্যম্ভাবী তাকেই মেনে নিয়েছিলেন।  পটভূমি    [1] মাউন্টব্যাটেনের আগমন : ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কাজ দ্রুত সম্পাদনের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট লর্ড ওয়াভেলের জায়গায় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভাইসরয় নিয়োগ করে ভারতে পাঠায় (২৪ মার্চ, ১৯৪৭ খ...

বার্লিন অবরোধ বা বার্লিন সংকট: কারণ, ঘটনা ও গুরুত্ব ।

বার্লিন অবরোধ বা বার্লিন সংকট সূচনা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে পটসডাম সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জার্মানিকে সোভিয়েত রাশিয়া, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এই চারটি দেশের কর্তৃত্বাধীনে চারটি পৃথক অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এখানে প্রতিটি রাষ্ট্র নিজেদের আলাদা উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চেয়েছিল। রাশিয়া চেয়েছিল তার অধিকার করা পূর্ব জার্মানিতে এক তাঁবেদার সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু মিত্রশক্তি চেয়েছিল তাদের অধিকার করা অঞ্চলগুলি নিয়ে পশ্চিম জার্মানি গঠন করতে। এর ফলে জার্মানি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় বার্লিন সংকট। বার্লিন অবরোধের পটভূমি :  পটসডাম সম্মেলনে (১৯৪৫ খ্রি., ১৭ জুলাই থেকে ২ আগস্ট) চার বৃহৎশক্তিবর্গ (সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স) একজোট হয়ে বার্লিন সংকটের পটভূমি রচনা করে। সম্মেলনে ঠিক হয়— [1] ‘৫টি ডি’ প্রয়োগ: জার্মানির ওপর ‘৫টি ডি ’ ( Five Ds ) — demilitarisation (বেসামরিকীকরণ), deindustrialisation (অবশিল্পায়ন), decentralisation (বিকেন্দ্রীকরণ), democratization (গণতন্ত্রীকরণ), de-Nazification (অবনাৎসিবাদীকরণ) প্রয...

দাঁতাত কী ? দাঁতাত উদ্ভবের কারণ ও গুরুত্ব আলোচনা করো।

দাঁতাত: ‘দাঁতাত’ (Detente) একটি ফরাসি শব্দ। এর অর্থ হল উত্তেজনা প্রশমন (relaxation of tension)। ১৯৭০-এর দশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঠান্ডা লড়াই ক্রমশ স্তিমিত হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক ইতিহাসে এই পর্বটি ‘ দাঁতাত’  নামে পরিচিত। অর্থাৎ পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সুপরিকল্পিত নীতি হল ‘দাঁতাত’। হেনরি কিসিংগারের মতে, দাঁতাত হল প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাত এবং সর্বোপরি পারমাণবিক যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে চিরাচরিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় গুরুত্ব আরোপ। দাঁতাতের উদ্ভবের কারণসমূহ: [1] অস্ত্র হ্রাস সম্পর্কিত সম্মেলন : পারমাণবিক যুদ্ধ ভীতি রাশিয়া এবং আমেরিকা দুই দেশকে পরস্পরের কাছাকাছি আনে। ঠান্ডা লড়াইয়ের অবসানে যে শীর্ষ সম্মেলনগুলির ভূমিকা ছিল সেগুলি হল—রুশ-মার্কিন জেনেভা শীর্ষ বৈঠক (১৯৮৫ খ্রি. ১৯ নভেম্বর), ওয়াশিংটন শীর্ষ সম্মেলন (১৯৮৭ খ্রি. ডিসেম্বর), মস্কো শীর্ষ বৈঠক (১৯৮৮ খ্রি., ২৯মে), মাল্টা শীর্ষ বৈঠক (১৯৯০ খ্রি. ৯ সেপ্টেম্বর), প্যারিস শিখর সম্মেলন (১৯৯০ খ্রি. ১৯ নভেম্বর), মস্কো শীর্ষ বৈঠক (১৯৯১ খ্রি. ৩০ জুলাই) ইত্যাদি। তব...